কুড়িগ্রামে সহমর্মিতা ! কুমিল্লায় অমিল? 

73
অনলাইন ডেস্ক: কুমিল্লায় পত্রিকা অফিসে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে সন্ত্রাসীদেও হামলায়  ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক সময়ের আলো পত্রিকার কুমিল্লাস্থ স্টাফ রিপোর্টার ও কুমিল্লা থেকে পকাশিত দৈনিক কুমিল্লার ডাক পত্রিকার সম্পাদক, কুমিল্লা প্রেসক্লাব’র সিনিয়র সদস্য, কুমিল্লা ইয়ুথ জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশন এর প্রতিষ্ঠাতা সিনিয়র সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীকে  ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত করার ঘটনার ৯ দিনেও যেখানে কুমিল্লার সাংবাদিক সমাজ নিরব কিংবা বিচারের দাবীতে সোচ্চার হতে পারেনি, বিপরীতে কুড়িগ্রামে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গভীর রাতে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে এক সংবাদ কর্মীকে জেলসহ মারধোরের ঘটনায় বিচারের দাবীতে কুমিল্লার সাংবাদিক সমাজ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে কুমিল্লায় সাংবাদিক সমাজসহ সচেতন মহলে।
জানা যায়, ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক সময়ের আলোর পত্রিকার কুমিল্লাস্থ স্টাফ রিপোর্টার ও কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত দৈনিক কুমিল্লার ডাক পত্রিকার সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী গত ৭ মার্চ রাতে অফিসে দৈনন্দিন কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে রাত আনুমানিক সোয়া ১০ টায় কুমিল্লা মহানগরীর টমসমব্রীজ এলাকায় একদল সন্ত্রাসীর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়। পরে পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে যায়। এঘটনায় আহত সাংবাদিকের ছোট ভাই কোতয়ালী মডেল থানায় দু’জনের নাম উল্লেখসহ ৪/৫ জন অজ্ঞাত আসামী উল্লেখ করে একটি মামলা রুজু করে। এদিকে ঘটনার পর এটিএন নিউজ, টিভি চ্যানেলের এক সাংবাদিকছাড়াও স্থানীয় কয়েকজন সংবাদকর্মী হাসপাতালে ছুটে যায়। পরে কয়েকটি অনলাইনসহ কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত ৪ টি দৈনিকে সংবাদটি ছাপা হলেও টিভি চ্যানেল ,জাতীয় দৈনিক বা কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত বেশ কটি পত্রিকা সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকে। এরপর ১৬ মার্চ পর্যন্ত ৯ দিন পার হলেও হামলায় জড়িত কাউকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। কুমিল্লার সাংবাদিক সমাজও এনিয়ে কোন মানব বন্ধন বা প্রতিবাদ সমাবেশ করার জন্য এগিয়ে আসেনি। এদিকে ১৩ মার্চ শুক্রবার মধ্যরাতে অনলাইন নিউজপোর্টাল বাংলাট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলামকে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন এর নির্দেশে তার শহরের চড়ুয়াপাড়ার বাসার দরজা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে মারধোর করে ডিসি অফিসে নিয়ে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে এক বছরের জেল দেওয়ার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে কুমিল্লার সংবাদ কর্মীরা। এজন্য প্রতিবাদ সমাবেশসহ মানববন্ধন কর্মসূচীও পালন করে। এখানে দু’জন নির্যাতিত সংবাদ কর্মী নিয়ে ঘটনা। নিজ জেলার সংবাদকর্মীরা নিজ জেলার সন্ত্রাসী হামলার শিকার সাংবাদিকের জন্য বিন্দুমাত্র সহমর্মিতা বা সহানুভূতি প্রকাশে এগিয়ে না এসে দেশের অন্য প্রান্তে অন্য একজন সংবাদ কর্মীর জন্য সহানুভূতি প্রকাশে মানব বন্ধন,প্রতিবাদ সমাবেশ ! সহমর্মিতা,সহানুভূতি তো দু’জনের বেলায় উচিত ছিল। কুমিল্লার সংবাদকর্মীরা কি এব্যাপারে এগিয়ে না এসে তাদের হীনমন্যতার পরিচয় দেয়নি কিংবা কুমিল্লায় যে অমিল সেটা প্রকাশ করেনি সাধারনের কাছে ? তাইতো নগরীতে অনেক সাধারন মানুষকে বলতে দেখা গেছে নিজেদের মাঝেই অমিল রেখে কুমিল্লার সাংবাদিক সমাজ কুড়িগ্রামের সাংবাদিকের প্রতি সহমর্মিতা দেখিয়ে কি বুঝাতে চাইল।
#যে সংবাদ প্রকাশের পর হামলা
মুরগী দোকানের কর্মচারি থেকে শীর্ষ মাদক কারবারি চর্থার কাশেম
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী: কুমিল্লা মহানগরীর দক্ষিণ চর্থা (থিরা পুকুরপাড়) মিয়া বাড়ির মৃত শফিক মিয়ার ছেলে কাশেম মুরগির দোকানের কর্মচারী থেকে এখন শীর্ষ মাদক কারবারি। স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, কাশেম এক সময় নিউ মার্কেটের মুরগির দোকানের কর্মচারী হলেও বর্তমানে মাদক ব্যবসা করে কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। কাশেমের মাদক ব্যবসার ধরন একটু ভিন্ন রকমের, সুচতুর কাশের প্রথমে ফেনসিডিলের ব্যবসা করলেও এখন ইয়াবা, গাঁজা পাইকারি বিক্রি করে থাকেন। কাশেমের ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি করার জন্য ১০/১৫ জনের একটি গ্রুপ রয়েছে যারা কাশেমের কাছ থেকে মাদক পাইকারি ক্রয় করে খুচরা বিক্রয় করে থাকেন। খুচরা বিক্রেতাদের নিকট মাদক পৌঁছে দেয় তার বড় ভাই একাধিক মাদক, ছিনতাই, ডাকাতি মামলার আসামি নজির। সূত্র জানায়, এক সময় নুন আনতে পান্তা ফুরানো কাশেম বর্তমানে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন এই মাদক ব্যবসা করে। পুরাতন পরিত্যাক্ত মাটির ঘর ভেঙে পাঁচতলা ফাউন্ডেশন করে বিল্ডিং নির্মান করে রুমে এসি লাগিয়েছেন। নিজে চলাচল ও মাদক বহনের জন্য রয়েছে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত গাড়ি। বীরদর্পে মাদক ব্যবসা করার জন্য সমাজের প্রভাবশালী লোকদের সুকৌশলে আত্বীয়, বন্ধু, বানিয়ে নিয়েছেন। কাশেম নিয়ন্ত্রিত খুচরা মাদক ব্যাবসায়ীরা পুলিশের হাতে ধরা পরলে জামিন, সংসারের খরচসহ যাবতীয় সব কিছু কাশেম দেখাশোনা করেন শর্ত কাশেমের নাম বলা যাবেনা। কাশেমের অবৈধ টাকার প্রভাবে তার বাড়ির লোকজনও অসহায় প্রায়। কাশেমের বাড়ির একাধিক লোক নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই প্রতিবেদককে জানান, কাশেমের মাদক ব্যবসায় বাঁধা দিতে গিয়ে আমরা বিভিন্নভাবে হয়রানি হই। কাশেম আমাদের হুমকি দিয়ে বলেন, আমাকে কেউ কিছু করতে পারবেনা। বিভিন্ন পুলিশ অফিসারের সাথে তার একান্ত মুহুর্তের ছবি দেখিয়ে বলে এরা সবাই আমার বন্ধু। অনেক সাংবাদিক পুলিশ ও নাকি কাশেমের কথায় ওঠবস করে। সূত্র জানায়, কাশেম পুলিশ অফিসারদের ভয় দেখিয়ে সবাইকে ভিতু করে রাখে। কাশেমের মাদক ব্যাবসার প্রতিবাদ করতে গিয়ে অনেক অসহায় লোক মিথ্যা মামলা হামলার স্বীকার হয়েছেন। দ্রুত কাশেমকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় না আনা হলে যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা যাবেনা।