চেক প্রতারণা মামলার বাদীকে ঠেকাতে আসামির মিথ্যা মামলা দায়ের

318

কক্সবাজার প্রতিনিধি: চেক প্রতারণা মামলার বাদীকে ঠেকাতে মামলার আসামি নবী হোছন কতৃক চেক প্রতারণা মামলার বাদী ও স্বাক্ষীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ সাবরাং সিকদার পাড়া এলাকার চিহ্নিত প্রতারক ফেরেববাজ নবী হোছেন নিজ স্বত্বাধিকারী জায়গা বিক্রি করার শর্তে একই এলাকার হোসাইন আহমদকে একটি আনরেজিস্ট্রার বায়না নামা চুক্তি সম্পাদন করে দিয়ে বায়না দাতা চুক্তি মত নগদ টাকা গ্রহন করেন এবং নগদ টাকা গ্রহনের অনুকূলে টাকার পরিমাণ উল্লেখ করে বায়না নামা চুক্তি দাতার এবি ব্যাংক টেকনাফ শাখার একাউন্টের একটি চেকে স্বাক্ষর করে বায়না নামা চুক্তি গ্রহীতাকে প্রদান করেন। পরবর্তীতে উক্ত বায়না নামা চুক্তি ও চেক গ্রহীতা হোসাইন আহমদ প্রতারক ফেরেববাজ নবী হোছন সম্পাদিত বায়না নামা চুক্তিতে বর্ণিত তপশিলের জায়গা অপর আরেক জনকে গোপনে রেজিস্ট্রি মূলে সাব কবলা করে দেন। গোপন সূত্রে এই খবর জানার পর বায়না নামা চুক্তি ও চেক গ্রহীতা হোসেন আহমদ বায়না নামা চুক্তি ও চেক দাতা প্রতারক নবী হোছনের সাথে যোগাযোগ করেন এবং তার সাথে বায়না করা জায়গা অপর ব্যক্তিকে কেন রেজিস্ট্রি মূলে সাব কবলা দিলেন কারণ জানতে চাইলে, প্রথমে রেজিস্ট্রি দেয়নি বলে অস্বীকার করেন প্রতারক নবী হোছন। পরে অবশ্যই দালিলিক প্রমাণ দেখানোর পর বায়না নামা চুক্তিতে বর্ণিত শর্তের বরখেলাপ করে বায়না নামা চুক্তিতে বর্ণিত তপশিলের জায়গা রেজিস্ট্রি মূলে অপর ব্যক্তিকে সাব কবলা প্রদান করার কথা স্বীকার করেন। বায়না নামা চুক্তি গ্রহীতার কাছ থেকে বায়না নামা চুক্তি ও প্রদত্ত চেকের অনুকূলে পণমূল্য হিসাবে গ্রহনকৃত টাকা ফেরত চাইলে প্রতারক নবী হোছন আজ দেবে কাল দেবে বলে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। অনেক ঘুরাঘুরি করার পরও যখন প্রতারক নবী হোছন টাকা দিচ্ছেনা তখন বায়না নামা চুক্তি ও চেক গ্রহীতা আইনি পদক্ষেপ হিসাবে প্রথমে নিজের নিয়োগকৃত আইনজীবীর মাধ্যমে এন.আই. এ্যক্টের সংশ্লিষ্ট ধারা মতে পাওনা টাকা পরিশোধের ৩০ দিনের সময় প্রদান করে বিগত ২০/০৮/২০১৭ইং তারিখ চেক দাতা নবী হোছনকে রেজিঃ ডাকযোগে উকিল নোটিশ পাঠানো হয় । ২১/০৮/২০১৭ ইং তারিখ উকিল নোটিশ খানা স্থানীয় সংবাদ পত্র “দৈনিক আজকের কক্সবাজার” এ গণ বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হয়। চেক গ্রহীতা হোছন আহমদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই প্রবাসী একজন চাকরিজীবিত হওয়ায় কর্মস্থলে যাওয়ার আগে চেক সংক্রান্ত মামলা পরিচালনা করা থেকে শুরু করে যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে বিগত ২১/০৮/২০১৭ ইংরেজি তারিখ তার নিকট আত্মীয় জসিম উদ্দিন পিতা জেবর মুল্লুক সাং সিকদার পাড়া সাবরাং টেকনাফকে ২৯৫ নং রেজিস্ট্রার্ট আমমোক্তার নামা দলিল প্রদান করেন। প্রতারক নবী হোছন নির্ধারিত সময়ে যোগাযোগ না করায় বিগত ১০/১০/২০১৭ ইংরেজী তারিখ বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত নং ০৩ কক্সবাজার এ চেক গ্রহীতা হোসেন আহমদ বাদী ও এর পক্ষে আমমোক্তার নামা দলিল মুলে আমমোক্তার নামা দলিল গ্রহীতা জসিম উদ্দিন চেক দাতা নবী হোছনকে আসামী করে একখানা ফৌজদারী দরখাস্ত দায়ের করেন। যার সি,আর,মামলা নং ৪১৫/২০১৭ ইংরেজী। প্রতারক নবী হোছন তার দেওয়া এবি ব্যাংক টেকনাফ শাখার চলতি ১০২১২২০০০৪৬২১ হিসাব নং এর চেক এর বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়ার কথা জানতে পেরে চেক প্রতারণা মামলা থেকে বাঁচতে মিথ্যা ষড়যন্ত্র মূলক উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে আগেভাগে ২০/০৮/২০১৭ ইংরেজি তারিখে বানোয়াট ঘটনার উদ্ভব দেখিয়ে ২৩/০৮/২০১৭ ইংরেজি তারিখ বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রট আদালতে প্রতারক নবী হোছন বাদী হয়ে চেক গ্রহীতা হোছন আহমদ ও মামলা পরিচালনা করার জন্য রেজিঃ ২৯৫ নং আমমোক্তার নামা দলিল গ্রহীতা জসিম উদ্দিনকে আসামী করে একখানা ফৌজদারি দরখাস্ত করেন। যার সি,আর,মামলা নং ৩৪৪/২০১৭ ইংরেজি। প্রতারক নবী হোছন সি,আর ৩৪৪/২০১৭ইং নং মামলায় যাকে ২ নং আসামি করেছেন। সে বর্তমানে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স এর ছাত্র। প্রতারক নবী হোছন তার দায়ের করা মামলায় ঘটনার যে তারিখ উল্লেখ করেছেন সেই সময় জসিম উদ্দিন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন এবং উপস্থিতির স্বপক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষের তথ্য প্রমাণ সি,আর, ৩৪৪/২০১৭ ইংরেজি নং মামলার বিজ্ঞ বিচারিক আদালতে প্রমাণ হিসাবে দাখিল করেছেন। বর্তমানে চেক প্রতারণার সি,আর ৪১৫/২০১৭ ইংরেজি নং মামলাটি বিচারের জন্য বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা জাজ আদালতে চলমান রয়েছে। যার মামলা নং এস/টি ১৬৩/১৮ ইংরেজি। বর্তমান সময়ে প্রতারক নবী হোছন চেক প্রতারণা মামলাটি আপোষ করার জন্য বিভিন্ন জনকে দিয়ে হুমকি ধমকি দেওয়াচ্ছে।