নওগাঁর পত্নীতলায় শহীদ মিনারে ফুল নেই

129
Exif_JPEG_420

রুহুল আমিন: নওগাঁর পত্নীতলায় সকল শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হলেও শ্রদ্ধা জানানো হয়নি উপজেলা পরিষদের সামনে অবস্থিত ভাষা শহীদ মিনারটিতে। আজকের দিনেও এভাবেই অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে আছে এ শহীদ মিনারটি। মিনারটি তৈরির পর কয়েক বছর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হলেও এবছর কেউ এ শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাননি। উপজেলার সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ সকল শ্রেণীর মানুষ এই শহীদ মিনারটির সামনে দিয়ে চলাচল করলেও এই শহীদ মিনারটিতে পুষ্পার্ঘ অপর্ন করেনি কেউ। শহীদ মিনারে কেই পুষ্পার্ঘ অপর্ন না করায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সুধী সমাজ।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ভাষা শহীদদের প্রতি সর্বশ্রেণী পেশার মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা গেটের সামনে ও নজিপুর-ধামইরহাট আঞলিক মহাসড়কের পাশে এই ভাষা শহীদ মিনারটি তৈরি করা হয়। ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এই শহীদ মিনারটি উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর কয়েক বছর বেশ জাকজমকপূর্ণ ভাবে এখানে ভাষা শহীদদের স্মরনে পুষ্পার্ঘ অর্পণে পাশাপাশি অনুষ্ঠান মালার আয়োজন করা হয়। ২৮শে অক্টোবর ২০০৬ সালে কে বা কাহারা শহীদ মিনারটির ক্ষতিসাধন করে এবং নামফলক ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। ২১ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে নজিপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অবস্থিত শহীদ মিনারে সরকারি ভাবে কর্মসূচীর আয়োজন করা হলেও ভাষা শহীদ মিনারে কেউ পুষ্পার্ঘ প্রদানের প্রয়োজন মনে করে না। এবারও কেউ পুষ্পার্ঘ প্রদান করেননি। যা ভাষা শহীদদের প্রতি চরম অজ্ঞার শামিল। বর্তমানে মিনারের পাশে থাকা গাছ পালার ঢালে ডেকে গেছে এর অবকাঠামো। এ নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের কোন মাথা ব্যথা নেই।

এবিষয়ে পত্নীতলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার কাজী আক্তার হোসেন বলেন, উপজেলা পরিষদের সামনে শহীদ মিনারে যদি প্রশাসনই শ্রদ্ধা না জানান সাধারন মানুষ কি করবে? ভাষা শহীদদের প্রতি এমন অজ্ঞা মেনে নেয়া যায়না। একই কথা জানান স্থানীয় বাসিন্ধা সামিউল ইসলাম সনি, সুজন কুমার, সিফাত হোসেন, কাজী তন্মময়, রাব্বি হাসান, সোহনুরসহ বিভিন্ন শ্রেণী প্রেশার মানুষ।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো ঃ লিটন সরকার এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পত্নীতলা উপজেলা পরিষদের সামনে একটি শহীদ মিনার রয়েছে, ওই শহীদ মিনারটি অনেক পূর্বে অপরিকল্পিত ভাবে তৈরী করা হয়েছিল। সেই সাথে রাজনৈতিক দ্ধিধা-দন্ড থাকায় বিগত কয়েক বছর ধরে ঐ শহীদ মিনারটিতে এখন আর ফুল দিয়ে শ্রদ্ধানিবেদন করা হয় না বলে তিনি জানান।