শ্রদ্ধাঞ্জলি-প্রভাতফেরিতে কুবিতে ভাষা শহীদদের স্মরণ

89

কুবি প্রতিনিধি:শোক ও বিনম্র শ্রদ্ধায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বায়ান্নর ভাষা শহীদদের স্মরণে একুশের প্রথম প্রহর থেকেই শুরু হয় দিবসটি পালনের আনুষ্ঠানিকতা। শ্রদ্ধাঞ্জলি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা ও সকালে প্রভাতফেরির মাধ্যমে ভাষা শহীদদের স্মরণ করে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

বৃহস্পতিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২ টা ০১ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এমরান কবির চোধুরী। এরপর একে একে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, হলসমূহ, শাখা ছাত্রলীগ, কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদ, বিভিন্ন বিভাগসমূহ, বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন ও আঞ্চলিক সংগঠনগুলো ফুল দিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানায়।

এর আগে বুধবার রাত ১০ টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শুরু হয় দিবসটি পালনের প্রস্তুতি। দলে দলে কালো ব্যাজ ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে জড়ো হতে থাকেন। ‘অনুপ্রাস কণ্ঠচর্চা কেন্দ্র’ পরিবশন করে কবিতা আবৃত্তি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘প্রতিবর্তন’ একুশের গানে গানে স্মরণ করে ভাষা শহীদদের।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্য সংগঠন থিয়েটার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় মুনীর চৌধুরী রচিত একুশের নাটক ‘কবর’ মঞ্চস্থ করে। তবে সময় স্বল্পতার কথা বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের নাটকটির মঞ্চায়ন মাঝপথে বন্ধ করে দেয় বলে অভিযোগ করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অর্ক গোস্বামী।

একুশের আনুষ্ঠানিকতায় রাত ১১.৩০ মিনিটে দিবসটির উপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা ভাষা সংগ্রামের কিংবদন্তী শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত’র দৌহিত্রী, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আরমা দত্ত।

আরমা দত্ত তাঁর বক্তব্য বলেন, ভাষা সৈনিকদের রক্তের দামে আমরা রাষ্ট্রভাষা বাংলা পেয়েছি। আমরা তাঁদের কোনোদিন ভুলবনা। তাঁদের আদর্শ, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে লালন করে আমাদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে হবে।

শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে স্মরণ করে আরমা দত্ত বলেন, দাদু গণপরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব উত্থাপনের পর আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, দাদু তুমি এতো বড় কাজ করে ফেললে আমাকে তো কিছু বললে না। তিনি আমাকে বললেন আমি আমার কর্তব্য পালন করেছি শুধু।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মো: আবু তাহের, শিক্ষক সমিতির সভাপতি রশিদুল ইসলাম শেখ, সাধারণ সম্পাদক ড. স্বপন চন্দ্র মজুমদারসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শাখা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারী নেতৃবৃন্দ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও ২১ ফেব্রুয়ারি ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। বাংলা বিভাগের উদ্যোগে শহীদদের স্মরণে শহীদ মিনার অভিমুখে অনুষ্ঠিত হয় ‘অমর একুশে প্রভাতফেরি’। বাংলা বিভাগ ও বিভাগের সহযোগী সংগঠন বাংলা ভাষা-সাহিত্য পরিষদ এবার দ্বিতীয়বারের মতো এই প্রভাতফেরিটির আয়োজন করে।

খালি পা, যথাবিহিত গাম্ভীর্যপূর্ণ প্রভাতফেরিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ থেকে শুরু হয়ে প্রাচীন নিদর্শন শালবন বিহার সংলগ্ন সড়কসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়। এরপর শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে ভাষা আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এতে বাংলা বিভাগের প্রধান মুহাম্মদ শামসুজ্জামান মিলকী; প্রভাষক নূর মোহাম্মদ রাজু, মোঃ নাজমুল হোসেন, সিনথিয়া মুমুসহ বিভাগের বিভিন্ন আবর্তনের শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।