উল্লাপাড়ায় অযত্নে অবহেলায় পড়ে আছে শহীদ মিনার ও গণকবর

78

মাসুদ রানা: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে অযত্নে অবহেলায় পড়ে আছে সলঙ্গা ইউনিয়নর চড়িয়া মধ্যপাড়া গ্রামে শহীদ মিনার ও গণকবরটি। অথচ এখানে ১৯৭১ সালের ২৫ এপ্রিল পাক হানদার বাহিনী এলাকার বিভিন্ন গ্রাম থেকে সাধারন মানুষকে ধরে এনে এক সাথে ১৫০ জন নিরঅপরাধ মানুষকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে হানাদার বাহীনির বুলেটে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে এই গ্রামের আব্দুল হাকিম তার নিজের জায়গায় ২০০৮ সালে সরকারি বরাদ্দের অর্থ দিয়ে এই শহীদ মিনারটি নির্মান করেছেন। ব্যক্তিগত জায়গা হলেও প্রথমে কয়েক বছর এই মিনারে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি মাতৃ ভাষা দিবস,বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসের আয়োজন করা হলেও বর্তমানে জাতীয় কোন পালন না করায় অবহেলিত ভাবে পরে আছে।মিনারের পাশেই অযত্নে পড়ে আছে বহুল আলোচিত গণকবরটি।

এগুলো রক্ষানাবেক্ষনের দায়িত্ব সরকারী ভাবে না করলে মানুষ এক সময় ভুলেই যাবে এই মহান ব্যক্তিদের অবদানের কথা। শহীদ মিনারের কিছু অংশের টাইলস ভেঙ্গে গেছে। এর পাদদেশে ধুলো ময়লা জুমে আছে। শহীদ মিনার ও গণ কবরের চারপাশ এবং সিঁড়ির মাঝ দিয়ে আগাছা জন্মেছে। শহীদ মিনারের জন্মানো আগাছাগুলোও পরিষ্কার পরিছন্ন না করায় বেহালবস্থায় পরে আছে। আজ বুধবার সংবাদকর্মিরা সরেজমিনে শহীদ মিনার পরিদর্শনে গেলে মিনারটির বেহাল অবস্থা তাদের ক্যমেরায় ধরা পরে এবং বাস্তব চিত্র জনসন্মুখে তুলে ধরেছে। অথচ একদিন পড়েই ভাষা শহীদদের স্মরণে সারা দেশে পালিত হবে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃ ভাষা দিবস ।

এ সময় চড়িয়া গ্রামের আবু তাহের, আকাল উদ্দিন খা, গোলজার হোসেন জানান, বেশ ক’বছর হলো এই শহীদ মিনারটিতে জাতীয় দিবসগুলোতে ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগতভাবে কোন ফুল দেওয়া হয় না। আয়োজন করা হয় না কোন অনুষ্ঠানের।

এ ব্যাপারে শহীদ মিনারের নির্মাতা আব্দুল হাকিমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে, তিনি জানান শহীদ মিনারটি কিছটুা ক্ষতিগ্রস্থ হলেও এখানে একুশে ফেব্রুয়ারির দিন বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং এখানে অনুষ্ঠানও করা হয়। শহীদ মিনারের আগাছাগুলো অনুষ্ঠানের পূর্বেই পরিস্কার করা হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান জানান, কোন অবস্থাতেই শহীদ মিনার কোন অবস্থাতেই অযত্নে অবহেলায় রাখা যাবে না। বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন।