নারী প্রতারক চক্রের হাতে জিম্মি একাধিক ব্যবসায়ী ও সাধারন মানুষ

89

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামে এক নারী প্রতারকের হাতে সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসেছেন একাধিক ব্যবসায়ী, পুরুষ, মহিলা ও সাধারন মানুষ। নুসরাত নামের ঐ মহিলা কখনো নিজেকে ব্যবসায়ী, কখনো শিল্পপতির মেয়ে আবার কখনো প্রবাসী আবার কখনো শিপ ইয়ার্ডের মালিক ইত্যাদি পরিচয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ চট্টগ্রামের বিভিন্ন লোকজনের সাথে প্রতারণা করে আসছে। এই সকল কর্মকান্ডে সহযোগিতার জন্য কখনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা ব্যবসায়ী বা প্রশাসনের কারো সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে এবং তাদেরকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ব্যবহার করে এ সকল প্রতারনা ও ফাঁদ তৈরী করে। বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন নাম ব্যবহার করে নুসরাত জাহান, নুসরাত ইকবাল পরিচয়দানকারী প্রতারক বাবলী আক্তারের সম্প্রতি তার প্রতারণার জালে আটকা পড়েছেন চট্টগ্রামের অনেক স্বনামধন্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। চট্টগ্রামের স্বনামধন্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এস.এ কর্পোরেশন এর স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ শাহ আলম এর নিকট হতে উক্ত প্রতারক নুসরাত পরিচয়দানকারী বাবলি আক্তার ভাটিয়ারী শীপ ইয়ার্ড বিক্রয়ের কথা বলে বিভিন্ন সময়ে নগদে ৮ (আট) কোটি টাকা গ্রহণ করে সময়মত শীপ ইয়ার্ড রেজিষ্ট্রি বা টাকা ফেরৎ না দিয়ে কাল ক্ষেপন করতে থাকে এবং টাকা পরিশোধের বিভিন্ন তারিখ দিতে থাকে। এক পর্যায়ে শালিসী বৈঠকের মাধ্যমে সে উক্ত ব্যবসায়ীকে ৫ কোটি ও ৩ কোটি টাকার ২টি চেক প্রদান করেন। চেকগুলো বারংবার ব্যাংক হতে ডিজঅনার হতে থাকলে উক্ত ব্যবসায়ী উপায়ন্তর না দেখে তাকে সামাজিকভাবে চাপ প্রয়োগ করলে সে গত ০২/০৯/২০১৯ইং তারিখে অঙ্গীকারনামা প্রদান করেন। উক্ত অঙ্গীকার নামা মোতাবেক ও সময়মত টাকা পরিশোধ না করায় উক্ত ব্যবসায়ী তার নামে ১৯৮১ সালের ঘও-অঈঞ এর ১৩৮ ধারা মোতাবেক দুটি চেক প্রতারনা মামলা দায়ের করেন। যার নং ১৬৯৮/২০১৯ ও ২৯৬০, মামলা দুটি আমলে নিয়ে বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালত ১ ও ২ সমন জারী করলে প্রতারক নুসরাত স্ব-শরীরে আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন। উক্ত প্রতারক নারী নুসরাত তার নামে দায়ের হওয়া চেকের মামলা কে বিতর্কিত করার জন্য উল্টো ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শাহ আলম এর নামে প্রতারনার মামলা দায়ের করে তাকে হয়রানী করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। নুসরাতের এ ধরনের প্রতারনা ও জাল-জালিয়াতির বেশ কিছু তথ্য, ডকুমেন্ট ও ভয়েস রেকর্ড প্রতিবেদকের হাতে এসে পৌছেছে। প্রাপ্ত তথ্য হতে জানা যায় শাহরিয়ার কবির সুমন নামে এক জনকে পূবালী ব্যাংক লিঃ, মদুনা ঘাট শাখার এস.এম নুসরাত ইকবাল নামীয় হিসাব থেকে ৫ লক্ষ টাকার চেক, চট্টগ্রাম শপিং কমপ্লেক্স এর কাপড় ব্যবসায়ী মোঃ রাসেলকে ব্যাংক এশিয়া লিঃ, বহদ্দার হাট শাখার এস.এম নুসরাত ইকবাল নামীয় হিসাব থেকে ৯ লক্ষ টাকার চেক, মোঃ জিয়াউল নামে এক জনকে ইউসিবি ব্যাংক লিঃ, মদুনা ঘাট শাখার এস.এম নুসরাত ইকবাল নামীয় হিসাব থেকে ২০ লক্ষ টাকার চেক এবং ব্যাংক এশিয়া লিঃ, মদুনা ঘাট শাখার এস.এম নুসরাত ইকবাল নামীয় হিসাব থেকে ৬ লক্ষ টাকার চেক, মোর্শদ নামের অন্য এক ব্যক্তিকে ইউসিবি ব্যাংক লিঃ এর এস.এম নুসরাত ইকবাল নামীয় হিসাব থেকে ৫১ হাজার টাকার চেক এবং ডাচ বাংলা ব্যাংক লিঃ এর বাবলী আক্তার নামীয় হিসাব হতে ৫২ হাজার টাকার চেক প্রদান করে, নারী উদ্যোক্তা মিসেস মুনী নামের এক জনকে ইউসিবি ব্যাংক লিঃ, মদুনা ঘাট শাখার এস.এম নুসরাত ইকবাল নামীয় হিসাব থেকে ২ লক্ষ টাকার চেক প্রদান করে। এছাড়াও প্রতিনিয়ত তার প্রতারনার শিকার হয়ে ফল ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র মাছ ব্যবসায়ী সহ অনেকেই আজ নিঃস্ব। প্রশাসন ও রাজনৈতিক ক্ষমতার ভয় দেখিয়ে এসব নিরীহ মানুষকে উলটো মামলা মকদ্দমার মাধ্যমে হয়রানি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।