শেষ হলো মাসব্যাপী সোনারগাঁ কারূশিল্প ও লোকজ মেলা

33

বিশেষ প্রতিনিধি: মুঘল আমলে বাংলার রাজধানী সোনারগাঁয়ে মাসব্যাপী লোক কারূশিল্প ও লোকজ মেলার শেষ দিনে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভির মুখরিত করেছে মেলা প্রাঙ্গণ।

১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার ভ্যালেন্টাইনস-ডে পহেলা ফাল্গুন মেলার শেষ দিনে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে লোকজ মেলায়। দেশী দর্শনার্থীদের পাশাপাশি বিদেশী পর্যটকরাও ভীড় করেছে এখানে। বিশেষ করে বিশ্ব ভালবাসা দিবস ও পহেলা ফাল্গুনে তরূন তরূনীদের ভীড় ছিল দৃষ্টি নন্দন।

বাংলাদেশ লোক ও কারূশিল্প ফাউন্ডেশনে প্রবেশের প্রতিটি সড়কেই সকাল থেকে দিনব্যাপী ছিলো যানজট। ফলে দর্শনার্থীদের পাশাপাশি স্থানীয়রা চলাচলে চরম ভোগান্তির শিকার হয়। প্রাচীন বাংলার রাজধানীতে লোকজ ঐতিহ্যকে ধারণ এবং চলমান জীবনধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার প্রত্যয় নিয়ে ১৪ জানুয়ারি থেকে মাসব্যাপী লোক কারূশিল্প মেলা শুরূ হয়েছিলো। গতকাল শুক্রবার ছিল মেলার শেষ দিন। তাছাড়া শুক্রবার ছিল বিশ্ব ভালবাসা দিবস ও পহেলা ফাল্গুন মেলায় আগত দর্শনার্থীরা ঐতিহাসিক পানাম নগরীতেও ভীড় জমিয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ব ভালবাসা দিবস ও পহেলা ফাল্গুনে মেলা চত্বর কানায় কানায় লোকে লোকারণ্য ছিলো। মেলার প্রবেশ পথ দিয়ে তরূণ তরূনী, শিক্ষার্থীসহ দর্শনার্থীদের পদচারণা ছিল লক্ষনীয়। মেলার প্রতিটি স্টলেই সারাদিন ভীড় ছিল। বাংলাদেশ লোক ও কারূশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালক ডক্টর আহমেদ উল্লাহ জানান, মাসব্যাপী এ আয়োজন লোক কারূশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসব পরিদর্শনে হাজার হাজার দেশি-বিদেশি দর্শকের সমাগম ঘটে। তাঁরা মেলা ও জাদুঘরের প্রাচীন ঐতিহ্যমন্ডিত নিদর্শন, ব্যবহারিক নিদর্শন, প্রাচীন আসবাব তৈজসপত্র প্রদর্শনী অবলোকনে বাঙালি জাতিসত্তাকে উপলব্দি করার প্রয়াস পান। দর্শনার্থীগণ মেলা ও লোকজ উৎসবে প্রবহমান শৈশব-কৈশর, গ্রাম-বাংলার মায়াময় রূপ খুঁজে পান। মাসব্যাপী দীর্ঘ আয়োজনে ছিল আবহমান বাংলার লোকজীবনের লুপ্তপ্রায় দৃশ্যাবলীর প্রদর্শনী।

সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের পরিবেশনায়-নুনতা, কানামাছি, রূমাল চুরি, গোল্লাছুট, দাঁড়িয়াবাঁন্ধা, ফুলটোক্কাসহ গ্রামীণ খেলাধুলা পরিবেশিত হয়। মেলার বিশেষ আকর্ষণে দেশের প্রথিতযশা ৬৪ জন কারূশিল্পীর কর্মপরিবেশ ৩২টি স্টলে পণ্যসামগ্রী উৎপাদনের সৃজনশীল প্রদর্শনী পর্যটকগণের কাছে উপস্থাপন করেন।

ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. আহমেদ উল্লাহর সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে ৬৪জন শিল্পীকে সনদ ও ক্রেস দিয়ে সম্মানিত করেন ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ। অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের ছেলে প্রকৌশলী মায়নুল আবেদীন ও ফকির আলমগীর। পরে মেলার সোনারতরী মঞ্চে সমাপনী অনুষ্ঠানে শিল্পী ফকির আলমগীর লোকসংগীত পরিবেশন করেন।