সাতক্ষীরায় বিলুপ্তরি পথে তালগাছের শিল্পী বাবুই পাখি

49

সরদার আবু সাইদঃ ছোট্ট ঠোঁট দিয়ে নিখুঁতভাবে বাসা বুনে শৈল্পী পাখি বাবুই, যা তৈরি করা মানুষের পক্ষেও সম্ভব নয়। এক সময় সাতক্ষীরার প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রাম গঞ্জের প্রায় প্রতিটি তাল গাছে এই বাবুই পাখির দেখা মেলতো। এই দৃশ্য জেলার কলারোয়ার মাদরার বিল সোনাবাড়িয়ার মাঠ, সদরের খড়িরআটি, বাবুলিয়া শিবপুরের খানপুর বিলসহ প্রতিটি পল্লি গ্রামে দেখা যেতো, সদরের বাগডাঙ্গী বিল টি এক সময় বাবুই পাখির মাঠ বলে পরিচিত ছিলো ছিলো শত শত তাল গাছ ও বাগান এখন কিছু তালগাছ থাকলেও নেই বাবুই পাখি ও বাসা। সদরের পরানদহা বিল ও দত্তডাঙ্গা বিল ও রাস্তার ধারে তালগাছ, শুপারিগাছ ও নারকেলগাছে প্রচুর বাবুই পাখির বাসা দেখা যেত। কিন্তু সমাজ পরিবর্তনের সাথে সাথে আমাদের গ্রাম-বাংলা থেকে শূন্য হয়ে যাচ্ছে কারিগরী এ পাখিগুলো।

দিনে দিনে উজার হচ্ছে তালগাছ। মাঠে মাঠে তৈরি হচ্ছে ইটভাটা। ইট পোড়াতে ব্যবহার করা হ”েছ বিভিন্ন গাছ। কবি-সাহিত্যিক ও নাট্যকার ডাঃ শেখ আবু সালেক বলেন, প্রতিনিয়ত আমরা ধ্বংস করছি আমদের সবুজ বৃক্ষ। নির্বিচারে বৃক্ষ নিধনের মাধ্যমে পাখিদের আবাস¯’ল ধ্বংস এবং বিভিন্ন ফসলের ক্ষেতে ক্ষতিকারক কীটনাশক প্রয়োগের প্রভাবে দিন দিন প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যা”েছ প্রকৃতির বয়নশিল্পী সামাজিক বন্ধনের কারিগর বাবুই পাখি ও তার বাসা। রজনীকান্ত সেনের কবিতার সেই বাবুই পাখি আজ হারিয়ে যা”েছ। যার ফলে এখন আর আগের মতো এই পাখি দেখা যায় না। মূলত তাল গাছে বাসা বাধতে বেশি স্বা”ছন্দ্য বোধ করে বাবুই পাখি। হারাতে বসেছে প্রকৃতির সুক্ষ্মদর্শী শিল্পী বাবুই পাখি হারিয়ে যা”েছ গ্রাম গঞ্জের ঐতিহ্যবাহী বাবুই পাখির বাসা। বাবুই পাখিরা সাধারণত তাল গাছের চুড়ায় বাসা বাঁধে।বাবুই পাখি গ্রামবাংলার ছোট্র একটি পাখির নাম। এ পাখি যেমন বুদ্ধিমান তেমনি শিল্পির মতো অপর“প তার কার“কার্য। বাবুই পাখি দেখতে অনেকটা চড়ুই পাখির মত।তবে আকারে একটু বড়। এরা ঝাঁক বেঁধে তাল গাছের চুড়ায় বসবাস করে, এরা খুব পরিশ্রমি পাখি। এই বাবুই পাখির বাসা গ্রাম গঞ্জের একটি ঐতিহ্যবাহী দৃশ্য। বাবুই পাখি নিয়ে কবি সাহ্যিতীকরা অনেক গল্প ও কবিতা লিখেছেন। তাল গাছের পাতার নিচের অংশে বাবুই পাখি বাসা তৈরী করে।

বাবুই পাখিদের বাসা বানানোর নির্মাণ শৈলী, কারিগরী দক্ষতা দেখে আধুনিক যুগের প্রকৌশলীদেরও ভাবিয়ে তোলে। তাল পাতার ছেড়া তা দিয়ে তারা বাসা বাঁধে। পাতা ছিড়ে এনে সূক্ষ্ম ভাবে ঠোঁট দিয়ে তা গাঁথুনী করে বাসা তৈরী করে, তাই এর নাম শিল্পী বাবুই পাখি। ঝড় বৃষ্টিতেও সেই বাসা ভেঙ্গে পড়ে না।

তাল পাতার বাসায় কোন ভাবেই জল ঢোকে না। এ বাসায় প্রবেশ ও বাহির হওয়ার জন্য রয়েছে একাধিক দরজা। এ এক অদ্ভুত দৃশ্য। অন্ধকার ঘরকে কিভাবে আলোকিত করতে হয় তাও বাবুই পাখিরা ভালো ভাবেই জানে। পশু পাখিদের মাঝে একমাত্র বাবুই পাখিই রাতের বেলা নিজের বাসায় আলোকসজ্জা করে থাকে। বাসার ভেতর একটু গোবর রেখে তার ভেতর জোনাকি পোকার মাথাটি ঢুকিয়ে দেয়। বাবুই পাখির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, রাতের বেলায় ঘর আলোকিত করতে জোনাকি পোকা ধরে নিয়ে বাসায় রাখে এবং সকাল হলেই ছেড়ে দেয়। জোনাকির আলোতে বাসা আলোকিত হয়ে উঠে। গ্রাম গঞ্জের প্রায় প্রতিটি তাল গাছে এই বাবুই পাখির দেখা মেলতো। প্রকৃতির বির“দ্ধে মানুষের আগ্রাসী কার্যকলাপের প্রভাবেই আজ বিলুপ্ত প্রায় বাবুই পাখি ও তার বাসা।