অভিযোগ পিছু ছাড়ছে না কুবি শিক্ষকের!

231

কুবি প্রতিনিধি: অভিযোগ যেন পিছু ছাড়ছে না কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রধান আলী রেজওয়ান তালুকদারের। সান্ধ্যকালীন কোর্সের এক নারী শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি ও প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ ওঠা এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এবার নতুন অভিযোগ উঠেছে।  অভিযোগকারী নারী শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, ওই শিক্ষক বিভিন্ন মহল দিয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠিয়ে নিতে তাঁর পরিবারকে হুমকি দিচ্ছেন।

পাশাপাশি তাঁর বিভাগের দুই সহকর্মী অভিযুক্ত শিক্ষক কর্তৃক আত্মপক্ষ সমর্থনে কুমিল্লা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁর দেয়া বক্তব্যে মানহানির অভিযোগ এনে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট লিখিত দিয়েছেন।

জানা যায়, গত বুধবার (১৫ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধীনে সান্ধ্যকালীন স্নাতকোত্তর (ইএমএ) কোর্সে অধ্যয়নরত এক শিক্ষার্থী তাঁর বিরুদ্ধে প্রোগ্রাম ডিরেক্টর, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং যৌন নিপীড়ন সেল বরাবর যৌন হয়রানি ও প্রমাণ লোপাটের লিখিত অভিযোগ করেন। যৌন হয়রানির অভিযোগ আমলে নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের সান্ধ্য কোর্স থেকে অব্যাহতি দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

তবে ওই শিক্ষার্থীর নতুন অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষক অভিযোগ উঠিয়ে নিতে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহল দিয়ে তাঁর পরিবারকে হুমকি দিচ্ছেন। অভিযোগকারী ছাত্রী জানান, ‘অভিযোগ করার পর থেকে আমার উপর নানা মহল থেকে চাপ আসছে। ওই শিক্ষক কুমিল্লা জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। তিনি তার ৯৫ ব্যাচের সব বন্ধুকে মাঠে নামিয়েছেন। আমার স্বামীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কিছু লোক এসে হুমকি দিয়ে গিয়েছে। তারা বলেছে অভিযোগ উঠিয়ে না নিলে আমার বিভিন্ন আপত্তিকর ছবি তারা ছড়িয়ে দেবে।’

ওই শিক্ষার্থী আরো জানান, ‘হুমকির পাশাপাশি সমঝোতার প্রস্তাবও দেয়া হচ্ছে। যেকোনো মূল্যে তারা চাইছে আমি অভিযোগ উঠিয়ে নেই। তবে আমি আমার অভিযোগের ব্যাপারে অটল।’

হুমকির অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক আলী রেজওয়ান তালুকদার বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ওই ছাত্রী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই সব মিথ্যা অভিযোগ করছে। একইভাবে তাকে বা তার স্বামী-পরিবারকে হুমকি দেওয়ার ব্যাপারটিও মিথ্যা-বানোয়াট। আমি বা আমার পরিচিত কেউ এমনটি করেনি।’

এদিকে গত ১৯ জানুয়ারি অভিযুক্ত শিক্ষক কুমিল্লা প্রেস ক্লাবে আত্মপক্ষ সমর্থনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সেই সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগকারী শিক্ষার্থীকে ‘টাকার বিনিময়ে শয্যাসঙ্গী’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘সান্ধ্যকালীন কোর্সের ওই ছাত্রী মানসিক ভারসাম্যহীন, ইনসমনিয়াজনিত কারণে যে রাতের পর রাত না ঘুমিয়ে থাকে। রাত ২/৩টায় একাকি বাসার ছাদে হেটেঁ বেড়ায়। উচ্চমাত্রার ঘুমের ঔষধ সেবন করে। স্বামীর সাথে ঝগড়া করে ইতিপূর্বে জীবনে ২ বার আত্মহত্যার চেষ্টা করে।’

এ ব্যাপারে অভিযোগকারী শিক্ষার্থী বলেন, ‘একজন শিক্ষক নৈতিকভাবে সর্বোচ্চ নীচ অবস্থানে না গেলে শিক্ষার্থী সম্পর্কে মিডিয়ার সামনে এসব শব্দ উচ্চারণের কথা নয়।’

ওই সংবাদ সম্মেলনে, মেয়ের দেয়া ওই অভিযোগের নেপথ্যে ইংরেজি বিভাগের একজন শিক্ষকের ইন্ধন রয়েছে বলে দাবি করে নিজেকে নির্দোষ দাবী করেন শিক্ষক আলী রেজওয়ান। পাশাপাশি তার বিভাগের আরো দুই জন শিক্ষক আকবর হোসেন এবং হাবিবুর রহমানের নৈতিক চরিত্রের ব্যাপারে ওই শিক্ষার্থী তাঁর নিকট এর আগে অভিযোগ করতে এসেছিলেন বলেও তিনি সংবাদ সম্মেলনে জানান।

এরই প্রেক্ষিতে ২০ জানুয়ারি ও ২১ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ইংরেজি বিভাগের ওই দুই শিক্ষক আকবর হোসেন এবং ড. হাবিবুর রহমান। দুজন শিক্ষকই তাদের অভিযোগপত্রে ঘটনা উল্লেখপূর্বক ওই শিক্ষকের মিডিয়ার সামনে দেয়া বক্তব্যে নিজেরা হেয় প্রতিপন্ন হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন এবং এর সুবিচার দাবী করেন।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে জিজ্ঞেস করা হলে অভিযোগ করা দুই শিক্ষকই অভিযোগে যা লিখেছেন সেটিই তাদের বক্তব্য বলে জানান।

দুই সহকর্মীর অভিযোগের ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক জানান, ‘আমি আসলে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করিনি। বরং তাঁদের দুজনের কথা যেগুলো ওই মেয়ে আমাকে বলেছিলো সেগুলোই উপস্থাপন করেছি। তারপরও আমি ব্যক্তিগতভাবে ওই সহকর্মীদের কাছে সরি বলেছি।’

সার্প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো: আবু তাহের বলেন, ‘ইংরেজি বিভাগের প্রধানের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ পেয়ে উপাচার্যের সাথে নির্দেশে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেয়ে আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা নিবো। একইসাথে তদন্ত চলাকালীন সময়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে সান্ধ্য কোর্সের সকল ধরনের কার্যক্রম থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে।’