যে কারণে রাস্তা দিয়ে লাশের খাটিয়া নিতে পারে না স্বজনরা

154
নূরুল আলম আবিরঃ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের গোলাইকরা গ্রামে সরু রাস্তার কারণে লাশের খাটিয়া দাফনের জন্য নিতে পারে না ভুক্তভোগী স্বজনরা। যেখানে গ্যাস ও বিদ্যুৎ আছে, সেখানে সরু রাস্তার কারণে লাশ নিয়ে বের হতে না পারার ঘটনা মর্মাহত করে সবাইকে। হাঁটার জন্য নেই পর্যাপ্ত রাস্তা। সরু রাস্তা দিয়ে কোনো রকমে একজন মানুষ যাতায়াত করতে পারলেও মানুষ মারা গেলে লাশের খাঁটিয়া নিয়ে বের হতে পারে না। অন্যের জমির উপর দিয়ে ফসল নষ্ট করে বাধ্য হয়েই যেতে হয়। কোনো প্রয়োজনীয় মালামাল বহন করতে হলেও অন্যের জমির উপর দিয়ে বহন করে নিতে হয়। এ সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন অসহায় ভুক্তভোগীরা। জানা গেছে, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের গোলাইকরা গ্রামের উত্তর পাড়ায় মহাসড়ক থেকে দুইশ মিটার পূর্ব দিকে অবস্থিত মনির সওদাগর বাড়িতে ১৪টি পরিবার বসবাস করে। সেখানে ৮০ জনেরও বেশি ভোটার রয়েছে। প্রতিবারই নির্বাচনের সময় ভোট প্রার্থীরা রাস্তাটির সমস্যা সমাধান করে দিবে বলে আশ্বাস দিয়ে ভোট আদায় করে নেন। কিন্তু ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর রাস্তা নিয়ে তাদের সহযোগিতা আর পাওয়া যায় না। এসব পরিবারের ছেলে-মেয়েরা পাশ্ববর্তী পদুয়া সুফিয়া রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, পদুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ভাজনকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। আর শ্রমজীবিরা দেশ ও বিদেশের বিভিন্নস্থানে কর্মরত রয়েছে। কাজের জন্য সবাইকে বাড়ির বাইরে যেতে হয়। কিন্তু যাতায়াতের সমস্যাটি তাদের একমাত্র সমস্যা হিসেবে বিরাজ করছে এখনো। মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ওই বাড়ির বৃদ্ধা সামছুন নাহার মারা গেলে তার লাশ সরু রাস্তা দিয়ে বহন করতে না পেরে অন্যের জমির উপর দিয়ে নিতে হয়েছে। ওই বাড়ির অন্য মানুষ মারা গেলেও একই রকম ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী আবদুর রাজ্জাক, আবদুল মালেক, ফজলুল হক, জাহাঙ্গীর হোসেন, আলমগীর হোসেন, মফিজুর রহমানসহ পাশের বাড়ির লোকজন অভিযোগ করে বলেন, একটি জায়গা ক্রয় করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জের ধরে মৃত বেছু মিয়ার পুত্র এবাদুল হক, সামছুল হক, একরামুল হক ও পাশ্ববর্তী ছালেহ আহমদ গং সরু জায়গা রেখে সাইড ওয়াল দিয়ে বাড়ি নির্মাণ করে নেয়। যার ফলে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়। মধ্য রাস্তায় আটকে যাওয়ার ভয়ে, ওই সরু রাস্তা দিয়ে ছোট ছেলে-মেয়েরা হাঁটতে ভয় পায়। একটু মোটা মানুষও চলাচলের জন্য পাশ্ববর্তী জমির উপর দিয়ে পা ফেলে। এদিকে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে মৃত ছেরু মিয়ার পুত্র এবাদুল হক অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করতে থাকে। ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাড়িতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ থাকলেও তারা হাঁটার রাস্তাটির সমস্যায় ভুগছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। আলকরা ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক হেলাল বলেন, ‘রাস্তাটি আরও চওড়া করা পিছনের বাড়ির লোকজনের জন্য অতীব জরুরী। তবে আমি উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করে যাচ্ছি’। এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাইফুর রহমান বলেন, ‘ভুক্তভোগীরা দেওয়ানী মামলা করলে আদালত রাস্তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবে’।