“ডাবল শিফট” এ নিশ্চুপ কেনো জবি প্রশাসন?

148
ফয়সাল আরেফিন: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রতিষ্ঠার ১৪ বছর অতিবাহিত হলেও এখনো শিক্ষার্থীদের পরিবহন সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেনি। প্রশাসন থেকে বারবার শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সময় বাসের “ডাবল শিফট” আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তাই প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় তীব্র পরিবহন সংকটের মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে ক্যাম্পাসে যাতায়াত করতে হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীদের। অন্যদিকে লোকাল বাসে চড়তে গিয়ে প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীরা নানা হয়রানির শিকার হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে দাঁড়ানো জায়গা না পেয়ে অনেকেই বাসের গেটে ঝুলে ঝুলে যান এর ফলে ঘটে দূর্ঘটনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের “বংশী” বাস থেকে এভাবেই পড়ে গিয়ে নির্মম মৃত্যু হয় এক শিক্ষার্থীর। এরপরও টনক নড়েনি প্রশাসনের। শিক্ষার্থীরা এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছে। বাসের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে শিক্ষার্থীরা পরিবহন পুল, বিভিন্ন আন্দোলনের সুবাদে দাবী ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিনিয়ত অভিযোগ করলেও নিশ্চুপ ভুমিকা পালন করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ বিষয়ে নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী আলিমুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের তুলনায় বাস সংখ্যা নেহাতই নগণ্য। সকাল সকাল কোনোভাবে দাঁড়িয়ে বাসে আসলেও দিনশেষে বাসে দাঁড়িয়ে ফেরা খুবই কষ্টকর হয়ে যায়। নতুন ব্যাচ আসায় এখন ভোগান্তি আরো বেড়েছে। হল না থাকায় মোট শিক্ষার্থীর প্রায় অর্ধেককেই বিশ্ববিদ্যালয় বাস ব্যবহার করতে হয়। ডাবল শিফট চালু হলে বাসে শিক্ষার্থীদের চাপ হ্রাস পাবে, আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অনুরোধ করব তারা যেনো আমাদের এই ভোগান্তির দৃশ্য নিজ চোখে দেখে যান।’ বিভিন্ন সময় আন্দোলন থামাতে প্রশাসন থেকে বাস বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে চক্রাকার বাসের কথাও। কিন্তু আশ্বাস শুধু আশ্বাসেই রয়ে গেছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। এ বিষয়ে পরিবহন প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, ‘ডাবল শিফট করার কোনো বাস্তবসম্মত ভিত্তি নেই। কেও যদি ডাবল শিফটের মাধ্যমে পুরাণ ঢাকার জ্যাম ঠেলে ক্যাম্পাসে সঠিক সময়ের পৌছানোর ফর্মুলা দিতে পারে তবে তাকে সাধুবাদ জানাবো। তিনি আরো জানান, ডাবল শিফটএর মাধ্যমে কোনো অবস্থাতেই গাড়ি ইন টাইমে ক্যাম্পাসে পৌছাবে না। আন্দোলন করলেই সবকিছু সম্ভব হয়না। এর জন্য যৌক্তিকতা লাগে। অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, শিক্ষকদের গাড়ি নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করেও দেখা হয়েছে, যার ফল খুব একটা সুখকর নয়। সাড়ে নয়টার গাড়ি ক্যাম্পাসে আসতে কয়টা বাজবে তা কেবল ওপরওয়ালাই জানেন। অনিশ্চয়তার কথা বলে তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের ক্লাস পরীক্ষার ক্ষেত্রে আমরা তাদের অনিশ্চয়তায় ফেলতে পারিনা। প্রয়োজনে যেই বাসে মাত্রাতিরিক্ত ভীড় হয় সেখানে একতলা বাস যুক্ত করা হবে।’ এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান বরাবরই বিভিন্ন সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বলে আসছেন পুরাণ ঢাকায় অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানগত কারণে এখানে ডাবল শিফট ও ডাবল ট্রিপ কোনোটাই সম্ভব নয়। গুলিস্তান, শাহবাগ কিংবা নিউ মার্কেট এলাকার জ্যাম ঠেলে ঠিক সময়ে কখনোই বাস শিক্ষার্থীদের “পিক আপ” করতে পারবেনা, উলটো আরো হয়রানি বাড়বে।