সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহন নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্ধে চট্টগ্রাম বিএনপি

328

তানভীর আহমেদ: কালের বিবর্তনে আবারো সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের দামামা বাজছে চট্টগ্রামে। আগামী মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে অথবা শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হতে পারে এই নির্বাচন। আসন্ন চ.সি.ক(চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন) নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতিমধ্যে ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। হাই কমান্ডের সাথে রাখছেন নিবিড় যোগাযোগ, নিজ বলয়ের নেতাকর্মীদের দিচ্ছেন বিভিন্ন দিক নির্দেশনা। আসন্ন চ.সি.ক নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচনের জন্য বিএনপির যেসব প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- প্রবীন বিএনপি নেতা এরশাদুল্লাহ,কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য মীর হেলাল, মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা: শাহাদাত হোসেন, সাধারন সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর প্রমুখ। প্রার্থীর আধিক্য থাকলেও নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে ব্যাপক দ্বিধা-দ্বন্ধে ভুগছে চট্টগ্রাম বিএনপির নেতা-কর্মীরা। বিএনপির নেতা-কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সহ সদ্য সমাপ্ত চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপ-নির্বাচনে ব্যাপক জোর-জবরদস্তিমূলক কর্মকান্ডের প্রেক্ষিতে আসন্ন চ.সি.ক নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে তাদের মধ্যে ব্যাপক মতভেদ আছে। চট্টগ্রাম বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না হলে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিপক্ষে। এই প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদল নেতা সৌরভ প্রিয় পাল বলেন, “ সূক্ষ এবং স্থূল এই দুই কারচুপিতে পারদর্শী বর্তমান সরকার এবং নির্বাচন কমিশন। অতীতের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ব্যাতীত নির্বাচনে অংশগ্রহণ আত্মহত্যারই নামান্তর।” নির্বাচন প্রসঙ্গে বায়েজীদ থানা বিএনপির সভাপতি আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, “অব্যাহত দমন-পীড়ন-নির্যাতন মাথায় নিয়ে চ.সি.ক নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে কিনা সেটি সময়েই বলে দিবে।” মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি নাজিমুর রহমান বলেন, “সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা। সরকারের সদিচ্ছা ব্যাতীত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অসম্ভব। সাধারণ জনগনের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত হলেই তবেই নির্বাচনে অংশ নিবে বিএনপি।” সিটি নির্বাচনের বিএনপির অংশগ্রহন সম্পর্কে মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা: শাহাদাত হোসেন বলেন, “ ঢাকার উত্তর এবং দক্ষিণ সিটি নির্বাচন আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। যদি ঐ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয় তাহলে চ.সি.ক নির্বাচনে আমরা অংশ নাও নিতে পারি। নির্বাচন কমিশন থেকে সংবিধান কর্তৃক প্রদত্ত জনগনের ভোটাধিকার প্রদানের নিশ্চয়তা না পেলে এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ব্যাতীত চ.সি.ক নির্বাচনে অংশগ্রহন সত্যিই দুষ্কর।” চ.সি.ক নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ নির্বাচন নিয়ে চলমান বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক দ্বিধা-দ্বন্ধ থাকলেও দলীয় হাই কমান্ডের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে “ চ.সি.ক নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী বিএনপি। তার আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এর নিশ্চয়তা চাই নির্বাচন কমিশন কর্তৃক।” সময়ের পরিক্রমায় নির্বাচনে অংশগ্রহন নিয়ে সৃষ্ট দ্বিধা-দ্বন্ধ কেটে যেতে পারে তবে তার জন্য আরো বেশ কিছুদিন অপেক্ষা প্রহর গুনতে হতে পারে চট্টগ্রাম বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের।