কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন রাজমিস্ত্রী পরিকল্পনা!

131

কালজয়ী ডেস্ক: কুমিল্লা সিটি মার্কেট হচ্ছে , টাউন হল মাঠের পূর্বদিকে কান্দির পাড় হতে জিলা স্কুলের দিকে যেতে চিকন যে মার্কেট গড়ে উঠেছে সেটির নাম ! এ মার্কট তৈরির উদ্দেশ্য নিয়ে , প্রথমে একটি মসজিদ করা হয়েছে , সরকারী জমিতে অবৈধ ভাবে । তারপর বাকি অংশ মার্কেট বানিয়ে — ইত্যাদি করা হয়েছে ! মসজিদটিকে ব্যবহার করা হচ্ছে ঢাল হিসাবে ! এই মসজিদের একশ গজের মধ্যেই নিউ মার্কেটের পাচ তলায় রয়েছে আরো একটি বিশাল মসজিদ , যেটিকে ইচ্ছে করলে আরো অনেক বড় এবং আরো কয়েক তলা করা সম্ভব। নিউ মার্কেটের উপরের মসজিদে কোন মাইক লাগানো হয়না , যাতে এটি সর্ব সাধারনের নজরে না আসে ! কারন এতে সমালোচনা হবে একশ গজের মধ্যে দুইটি মসজিদ কেন ?

সরকারী জায়গায় কেন মসজিদ হলো এসব । সিটি মার্কেট নামক এই অবৈধ ভবনটি শহরের সৌন্দর্য নষ্ট করেছে । এই অবৈধ মার্কেট এবং মসজিদটি এখানে না থাকলে কান্দির পাড় এবং টাউল হল মাঠ অনেক খোলামেলা ও সুন্দর হতো । নিউ মার্কেটের সিড়িতে দাড়ালে পুবালী ব্যাংক , টাউনহল মাঠ দেখা যেতো । কান্দিরপাড় ও টাউনহল মাঠটি অনেক মনোরম ও খোলামেলা হতে পারতো । সিটি মার্কেট নামক বস্তুটি মূলত একটি ঘিঞ্জি মার্কেট , তিন তলায় গিয়ে এটি মধ্যে করিডোর করে দোকান সংখ্যা দিগুন করা হয়েছে । এই ঘিঞ্জি মার্কেটে কেউ একবার উঠলেই আর দ্বিতীয় বার যেতে চাইবেনা ।

এ মার্কেট শত চেস্টায়ও সচল করা যায়নি । যারা দোকান কিনেছেন , তারা ভাড়াও দিতে পারছেন না । অযথাই সরকারের দশ কোটি টাকা নস্ট হয়েছে । এখন আবার ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয় করে নিউ মার্কেটের সাথে সংযোগ সেতু করার পরিকল্পনা হচ্ছে ! নিউ মার্কেটটিও অপরিকল্পিত ভাবে নোংরা ডিজাইনে করা হয়েছে । মার্কেটের করিডোরের জানালা বন্ধ করে দোকান করা হয়েছে ! দোকান সংখ্যা বৃদ্ধি করতে গিয়ে মার্কেটটিকে ঘিঞ্জি করে ফেলা হয়েছে। তাই এ মার্কেটটিও ব্যবসা সফল হয়নি। টাকা খরচ করে একটা শহরকে কতোটা অসুন্দর করা যায় , কুমিল্লা শহর না দেখলে এটা কেউ বুঝতে পারবেনা ।

পাকা সুবিশাল ডাষ্টবিন করে এখানে সংরক্ষণ করা হয় আবর্জনা । এই আবর্জনা ফেলে রাখা হয় খোলা আকাশের নিচে , এতেকরে পরিবেশ দূষণ ও বায়ু দূষণ হচ্ছে । বর্জ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা সাড়া দুনিয়ায় আছে । এখানে সে মেশিন গুলো কিনে আনলেই হয় ! কিন্তু এসব উদ্যোগ নেয়া হচ্ছেনা ! কুমিল্লা শহর এখন বিজ্ঞাপনি সাইনবোর্ডের শহর । এতো বিল বোর্ড পৃথিবীর আর কোন শহরে সম্ভবত নাই ।রাস্তার মাঝে ষ্টিল দিয়ে ডিভাইডার করে , বিজ্ঞাপনী সংস্থার কাছে ভাড়া দেয়া হয়েছে । সুস্থ রুচির মানুষ যা কল্পনাও করতে পারেনা ।

এ শহরে ড্রেন থেকে কাদা তুলে রাস্তার পাশে সুকানো হয় !!! এটি যেন দুইশ বছর আগের কোন নগরী !! শহরের সর্বত্র ডিস লাইনের জঞ্জাল ! হাটার জন্য ফুটপাথ নেই বললেই চলে । যেগুলো আছে সেগুলো সর্বোচ্চ চার ফুট প্রশস্ত। তিনজন মানুষ হেটে গেলে , উল্টা দিক থেকে একজনের হেটে আসার উপায় নেই । ফুটপাথ হওয়া উচিৎ ছিল কমপক্ষে পনের ফুট প্রশস্ত । ড্রেন হয়েছে যেখানে যতটুকু যায়গা পাওয়া যায় ভিত্তিতে । সিটি কর্পোরেশনের জায়গার কি কোন ম্যাপ বা হিসাব নেই ? ডিস টেলিফোন ইন্টারনেট লাইনের স্তুপ শহরের সর্বত্র ! রাস্তা ঘেষে গড়ে উঠছে সুউচ্চ ভবন ।

ভবিষ্যতে রাস্তা প্রশস্ত করার ব্যবস্থা সংকুচিত হচ্ছে , বাড়ছে জনজট । দিনে দিনে তাই বেড়ে চলেছে যানজট । অপরিকল্পিত ড্রেন নির্মানের কারনে বাড়ছে জলজট । এ শহরে এমন সব গলি আছে , যে সকল রাস্তায় উল্টা দিক থেকে গাড়ী আসলে , একটি গাড়ী কোথাও দাড়িয়ে , অন্যগাড়ী যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হয় । বস্তি এলাকার গলি থেকে মৃত মানুশের লাশ বের করাও কঠিন ! শুনা যায় সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত দায়িত্ব প্রাপ্তদের অনেকেই প্ল্যান পাস বানিজ্যে নিয়োজিত আছেন । এ কাজে মোটা অংকের লেনদেন হয় । টাকা যখন কথা বলে , তখন অনিয়ম প্রশ্রয় পাবেই । বহু সুউচ্চ ভবন যতই উপরে উঠেছে , ততোই স্বাস্থ্যবান হয়েছে !! আগামী দশ বছরের মধ্যে এ শহরটি বসবাসের উপযোগিতা হাড়াবে , যদি এখনই সঠিক পরিকল্পনা নেয়া না যায় , কারন ইতিমধ্যেই যথেষ্ট দেরী হয়ে গেছে – শেষের তিনটি ছবি নিউ মার্কেটের পাঁচ তলার মসজিদ এবং পাশের খালি জায়গার !

আনিসুর রহমান মিঠুর ফেসবুক থেকে…..
যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক কুমিল্লা মহানগর আওয়ামীলীগ।