সোনারগাঁ লোক ও কারূশিল্প ফাউন্ডেশন আন্তর্জাতিক মানের হবে-সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী

44

শাহাদাৎ হোসেন শিপন: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি বলেছেন,শিল্পাচার্যের ২শ’টির বেশি শিল্পকর্ম বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শিত হচ্ছে। শিল্পচার্যকে স্মরণ করার জন্য তার এ সৃষ্টি সোনারগাঁয়ের এ প্রতিষ্ঠান যাতে হারিয়ে না যায় তার জন্য আমরা বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছি। বর্তমান সরকারের এ মেয়াদেই সোনারগাঁ লোক ও কারূশিল্প ফাউন্ডেশেন একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। যেখানে শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতি ও লোকজন উৎসবের মিশ্রণ থাকবে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিলুপ্তপ্রায় লোকজ ঐতিহ্যকে পুনরূদ্ধার, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, গবেষণা, প্রদর্শন এবং পুনরুজ্জীবনের লক্ষে মঙ্গলবার বিকেলে সোনারতরী মঞ্চে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ লোক ও কারূশিল্প ফাউন্ডেশন চত্বরে মাসব্যাপী লোকজ মোলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সোনারগাঁ ইতিমধ্যে জামদানীতে বিশ্বস্বীকৃতি পেয়েছে। এটি সোনারগাঁয়ের অর্জন। এটি কেউ এমনি এমনি দান করে দেননি। সোনারগাঁয়ে এখন জামদানী তৈরি হয়। এক সময় মসলিন তৈরি হতো। কাপাসিয়া থেকে মুসলিনের তুলা ও সুতা স্থানান্তর হয়েছিল। বুড়িগঙ্গা পাড়ে শীতলক্ষ্যা মেঘনা ব্যষ্টিত এ বদে যে তাপমাত্রা ছিল মসলিন বুনতে সবচেয়ে বেশি উপযোগী ছিল। তাই এখানে মুসলিন পল্লী গড়ে উঠেছিল। মন্ত্রী আরো বলেন, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনকে বেশি করে তুলে ধরার জন্য বর্তমান সরকার তার জন্মস্থান ময়মনসিংহে সংগ্রহ শালার জন্য ২৩৪ কোটি টাকার ব্যায়ের একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ব্রক্ষপুত্রের সংযোগ হবে মেঘনা নদী দিয়ে। ফলে ময়মনসিংহের সাথে সোনারগাঁয়ের সংযোগ হবে। আমরা চাইবো এ সংযোগটি যেন সোনারগাঁকে প্রসারিত ও বিকশিত করে। সোনারগাঁ থেকে আলো নিয়ে সোনা ছড়াবে ময়মনসিংহে। মন্ত্রী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে মেলার বিভিন্ন স্টল, জীবন্ত প্রদর্শনী ও ঘুরে দেখেন। ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. আহমেদ উল্লাহর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সংস্কৃতি সম্পাদক অসীম কুমার উকিল এমপি, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. জসীমউদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. জাহেদুল হক, সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন, সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রকিবুর রহমান খাঁন, সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সামসুল ইসলাম ভূইয়া, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম, সোনারগাঁ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার ওসমান গণি। মঙ্গলবার থেকে শুরূ হওয়া মেলা চলবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত। ফাউন্ডেশন সূূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের পল্লী অঞ্চল থেকে ৬৪ জন কারুশিল্পী মেলায় প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছেন। তাদের জন্য ৩২টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নওগাঁও ও মাণ্ডরার শোলা শিল্প, রাজশাহীর শখের হাড়ি, চট্টগ্রামের তালপাখা ও নকশি পাখা, রংপুরের শত রঞ্জি, সোনারগাঁয়ের হাতি ঘোড়া পুতুল ও কাঠের কারুশিল্প, নকশিকাঁথা, বেত ও বাঁশের কারুশিল্প, নক্শি হাতপাখা, সিলেট ও মুন্সিগঞ্জের শীতল পাটি, কুমিল্লার তামা-কাঁসা পিতলের কারূশিল্প, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠীর কারু পণ্য, কিশোরগঞ্জের টেরা কোটা শিল্প, সোনারগাঁয়ের পাটের কারূ শিল্প, নাটোরের শোলার মুখোস শিল্প, মুন্সিগঞ্জের পাট চিত্র, ঢাকার কাগজের হ¯স্ত শিল্পসহ মোট ১৫৪টি স্টল রয়েছে। এছাড়াও প্রতিদিন লোক কারূ শিল্প মেলা ও লোকজউৎসবে বাউলগান, পালাগান, কবিগান, ভাওয়াইয়া ও ভাটিয়ালী গান, জারি-সারি ও হাছন রাজার গান,লালন সংগীত, মাইজভান্ডারী গান, মুর্শিদী গান, গাঁয়ে হলুদের গান, বান্দরবান, বিরিশিরি, কমলগঞ্জের-মণিপুরী ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শরিয়তী-মারফতি গান, ছড়া পাঠের আসর, পুঁথি পাঠ, গ্রামীণ খেলা, লাঠি খেলা, দোক খেলা, ঘুড়ি ওড়ানো, লোকজ জীবন প্রদর্শনী, লোকজ গল্প বলা, পিঠা প্রদর্শনী ইত্যাদি থাকবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সোনারতরী মঞ্চে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন বাউল শিল্পী শফি মন্ডল, নওরিনসহ বিভিন্ন শিল্পীরা।