সিরাজগঞ্জে ফসলি জমির মাটি এখন ইটের ভাটায়

55

হুমায়ুন কবির সুমন: সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া ও তাড়াশ উপজেলায় ফসলি জমির উর্বর উপরিভাগের মাটি বিক্রির হিড়িক পড়েছে। ফলে ফসল উৎপাদন কমার পাশাপাশি বহু কৃষক বেকার হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া মাটি কাটায় পরিবেশও পড়েছে হুমকির মুখে।

মাটি কাটার মেশিন (ভ্যাকু) বসিয়ে জমির গভীর থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। কৃষকদের অভাবের সুযোগে এসব মাটি কিনে নিয়ে ইট তৈরির কাজে লাগানো হচ্ছে। মাটির উপরিভাগের ১০-১৫ ইঞ্চির মধ্যে উর্বরতা শক্তি থাকে। তাই এসব মাটি খুঁড়ে বিক্রি করার ফলে তা পুনরায় ফিরে আসতে ১০-১৫ বছর সময় লাগে। আর বারবার তা খোড়া হলে এসব জমি ফসল উৎপাদনে স্থায়ীভাবে একেবারে অক্ষম হয়ে পড়তে পারে। এতে পার্শ্ববর্তী জমিও ভেঙে পড়ে।

ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা নামমাত্র মূল্যে ওই বাহিনীর কাছে জমি বিক্রি করতে বাধ্য হন। এ ছাড়া মাটি ইটভাটায় নেওয়ার জন্য কোনো রাস্তা না থাকায় পার্শ্ববর্তী জমির ওপর দিয়েই ট্রাক চালিয়ে নেয়। এ কারণে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন জমি। এলাকাবাসী জানায়, চক্রটি এতই প্রভাবশালী যে তাদের ভয়ে জমির মালিকরা কিছু বলতে সাহস পান না। বাধ্য হয়ে ঐ প্রভাবশালীদের নিকট জমির মাটি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে।

এদিকে রায়গঞ্জ উপজেলায় ব্যাঙয়ের ছাতার মতো অবৈধ ভাবে দুই তিন ফসলি জমিতে গড়ে উঠেছে ইট ভাটা। এ উপজেলাতেই বৈধ-অবৈধ ভাবে গড়ে উঠেছে প্রায় ৬৭টি ইটভাটা রয়েছে।

সরেজমিনে বুধবার সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাঠ থেকে আমন ধান ওঠার পরপরই ফসলি জমির মাটি বিক্রি শুরু হয়। আর এসব মাটি ট্রাকে ও ট্রলিতে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ইটভাটায়।

রায়গঞ্জ উপজেলার বৈকন্ঠপুর গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, ইটভাটায় মাটি সরবরাহের জন্য একশ্রেণির দালাল চক্র গ্রামে গ্রামে ঘুরে কৃষকদের মাটি বিক্রি করতে উৎসাহ জোগায় এবং স্বল্পমূল্যে উপরিভাগের এসব মাটি কেটে কিনে নেয়।

জমির মাটি বিক্রেতা মোঃ আমজাদ আলী বলেন, আমরা কৃষক চাষাবাদ করে খাই। নগদ টাকা পাচ্ছি বলে মাটি বিক্রি করছি। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কথা না জেনে সহজ-সরল কৃষকেরা দালাল চক্রের হাতে প্রতারিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

সিরাজগঞ্জ জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ভরসা ব্রিকসর স্বত্তাধিকারি মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, কৃষক লাভের আশায় মাটি বিক্রি করছে। আমাদের কিছু করা নেই। তবে সেই মাটি ভাটা মালিকরা সরাসরি ক্রয় করছে না। মৌসুমী মাটি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ক্রয় করছেন।

এ ব্যাপারে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শামীমুর রহমান জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় অবাদি জমিতে মাটি কাটা বন্ধ করা হয়েছে। যারা আবাদি জমিতে এখনো মাটি কাটছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।