বুড়িচংয়ে ডিআইজি-এসপি পরিচয়ে প্রতারনায়:বরখাস্তকৃত এস আইসহ গ্রেফতার ২

155

বুড়িচং (কুমিল্লা ) প্রতিনিধি।। দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের ডিআইজি-এসপি পরিচয়ে কোটি কোটি টাকা প্রতারণার দায়ে ফখরুদ্দিন মোহাম্মদ আজাদ নামে বরখাস্তকৃত পুলিশের এক এস আইকে বুড়িচং থানার দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মোঃ সাজ্জাদ হোসেন এর নেতৃত্বে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের সহায়তায় যৌথ টিম অভিযান চালিয়ে ঢাকার খিলগাঁও এলাকার একটি বাসা থেকে তার প্রধান সহযোগী গাড়ি চালক রুবেল সর্দার সহ ২জনকে গ্রেফতার করে। উদ্ধার করা হয় পুলিশের পোশাক, ব্যাজ, পুলিশের স্টিকার যুক্ত প্রাইভেটকার, পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সীল-স্বাক্ষর সম্বলিত ভূয়া নিয়োগপত্র সহ বিপুল পরিমান সরঞ্জমাদি। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, বিপিএম (বার), পিপিএম।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার বাকুই-হরিরচর গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে ফখরুদ্দিন মোহাম্মদ আজাদ ১৯৯১ সালে পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর পদে যোগদান করে। শিক্ষানবিশ থাকাবস্থায় প্রতারনা পূর্বক ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা গ্রহণের দায়ে চাকুরী থেকে বরখাস্ত হয়। ২০০০ সালে ডিবি পরিচয়ে রাজধানীতে ছিনতাইকালে তৎকালীন ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ডিবির হাতে গ্রেফতার হয়ে সাত মাস কারাভোগ করে । এরপর তাকে ২০০৫ সালে পুলিশ বাহিনী থেকে তাকে স্থায়ী ভাবে বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তীতে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে ফখরুদ্দিন মোহাম্মদ আজাদ কুমিল্লা, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগ, বদলী, দেশ বিদেশে প্রেরণের বিভিন্ন ভূয়া সনদপত্র, মামলা থেকে অব্যাহতি, মামলায় জড়ানোসহ গ্রেফতার ও বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে গাড়ি, জায়গা সম্পত্তিসহ লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, বিপিএম (বার), পিপিএম জানান, ঢাকার খিলগাঁও আবাসিক এলাকার সি ব্লকের ৩৬৪নং বিলাস বহুল বাসা থেকে প্রায় ১৯ বছর পর সোমবার রাতে তাকে আবারও গ্রেফতার করা হয়। তিনি দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে বিভিন্ন প্রতারনা চালিয়ে আসছে নির্বিঘ্নে । তার গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত কয়েক কোটি টাকার প্রতারণার শিকার ১১জন ভুক্তভোগী পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে। প্রতারণায় প্রধান সহযোগী তার গাড়ী চালক রুবেল সর্দারকেও আটক করা হয়েছে। একজন ভোক্তভোগী জাতিসংঘের কর্মকর্তা মোঃ জয়নাল আবেদীন জানান, গত ৩ বছর পূর্বে তার স্ত্রী ২সন্তানের জননী শাহনাজকে প্রতারনা পূর্বক ফুসলিয়ে কৌশলে নিয়ে ভোক্তভোগীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ না ঘটিয়ে অবৈধ ভাবে ঘর-সংসার করছে।

অপরদিকে পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, এক মাস আগে অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক সাইদুল ইসলাম একটি অভিযোগ করেন । তার ছেলেকে পুলিশের চাকুরী দেয়ার কথা বলে ফকরুদ্দিন ১১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। তারপর কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানাধীন দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মোঃ সাজ্জাদ হোসেন- এর নেতৃত্বে জেলা ডিবি পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে প্রতারক ফখরুদ্দিনকে ঢাকার খিলগাঁও থেকে আটক করে। আটক হওয়ার পর আরো অন্তত ১০-১২ জন ভোক্তভোগী পুলিশ কার্যালয়ে এসেছেন ফখরুদ্দিনের বিষয়ে অভিযোগ নিয়ে। যার মধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ব্যাংকার রেজা, আজম, আনোয়ার, শফিকুল ইসলাম ভ’ইয়া, সালমান তালিব, গোলাম আজম, মাইনুল, পারভেজ , মিজান সহ আরোও অনেকে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত রেজা জানান, তার নতুন কেনা প্রাইভেট কার টি প্রতারনার মাধ্যমে হাতিয়ে নেয় ফখরুদ্দিন। পরে প্রাইভেটকারটি ফেরত চাইলে সংবাদ সম্মেলনে আরেক অভিযোগকারী আনোয়ার জানান, দোকান দেয়ার নাম করে ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় ফখরুদ্দিন। এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আরেকজন জানান, লোন নিয়ে ৪০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন ফখরুদ্দিন। এমন অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে ফখরুদ্দিনের বিরুদ্ধে।

পুলিশ সূত্র আরোও জানায় এ প্রতারকে গ্রেফতারের পর তার নিকট থেকে উদ্ধার করা হয় পুলিশের বিভিন্ন উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের বদলীর আদেশের নাম সম্বলিত কপি , পুলিশের পোষাক পরা একাধিক ছবি, প্রতারনা কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ব্যাংকের একাধিক চেক বই সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ইস্যুকৃত ভ’য়া কাগজ পত্র।

সংবাদ সম্মেরনে উপস্থিত ছিলেন পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মো:আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, মোহাম্মদ শাখাওয়াৎ হোসেন,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আজিম উল আহসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তানভীর সালেহীন ইমন, অভিযান পরিচালনাকারী পুলিশ পরিদর্শক মোঃ সাজ্জাদ হোসেন-সহ জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।