চলিত মৌসুমে ব্রাহ্মণপাড়ায় মিষ্টি আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। এবার কম খরচে অধিক মুনাফা কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। ধান ও রবি ফসলের তুলনায় দুই তিনগুণ ফলন ও ভাল দাম পাওয়ায় মিষ্টি আলু চাষে ঝুঁকছেন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এ মৌসুমে উপজেলার ব্রাহ্মণপাড়ায় প্রায় ১২০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের মিষ্টি আলুর আবাদ হয়েছে। উৎপাদন খরচ কম ও লাভ বেশি হওয়ায় ধান ও অন্যান রবি ফসল চাষের পরিবর্তে মিষ্টি আলু চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সিদলাই, চান্দলা, মালাপাড়া,মাধবপুর ইউনিয়নে পোমকাড়া, বেড়াখলা, দিঘিরপাড়,লাড়োচৌ,ষাইটশালা,বাড়ানী,কান্দুঘর,আছাদনঘর, চন্ডিপুর, রামনগর, মনোহরপুরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মিষ্টি আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে।
কথা হয় সিদলাই গ্রামের মৃত্যু জনু মিয়ার ছেলে হোসেন এর সাথে তিনি বলেব, এ বছর ৩০ শতাংশ জায়গায় মিষ্টি আলুর চাষ করেছি, ফলন ও ভাল হয়েছে। বাড়তি দামে বিক্রি করছি। ৩০ শতাংশ জায়গায় ৫০থেকে ৬০ মন পাওয়ার আশা। এছাড়া মৃত্যু চেরেগ আলীর ছেলে হারুন মিয়া, মৃত্যু জব্বর এর ছোট জামসেদ,আবদুল রহিমের ছেলে তাজুল ইসলাম, চান্দলা আজাদ, কবির জলিল জানান,আমাদের এলাকায় অনেক আগ থেকেই রবি ফসলের পাশাপাশি মিষ্টি আলুর চাষ হয় ,দাম কম থাকায় আমাদের আগ্রহ কম ছিল কিন্তু বর্তমানে ফলন ও দাম পাওয়ায় আমরা এখন মিষ্টি আলু চাষে ঝুঁকছি। তারা আরো বলেন চলতি বছর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় মিষ্টি আলুর চাষ করেছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহবুবুর আলম জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় কয়েক শতাধিক কৃষক জমিতে মিষ্টি আলুর চাষাবাদ করেছেন। এ বছর ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা ১০৫ হেক্টর লক্ষ্য মাত্র ছিলে,কিন্তু আমাদের অর্জত হয়ছে ১২০ হেক্টর। মিষ্টি আলুতে উৎপাদন খরচ এবং পরিশ্রম অনেক কম। তাছাড়া পোকা-মাকড়ের ক্ষতির সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
আর পরিত্যক্ত জমিতে মিষ্টি আলু চাষ করলে ধানের চেয়ে তিনগুণ লাভ হয়। অগ্রাহায়ণ মাসের প্রথম সপ্তাহে থেকে শুরু হয় মিষ্টি আলুর চারা বপন করা হয়। ফাল্গুন মাসের তৃতীয় সপ্তাহে থেকে মিষ্টি আলু মাটির নিচে পরিপক্ব হয়। আর চৈত্র ও বৈশাখ মাস আলু তোলায় ব্যস্ত থাকেন চাষিরা। এখন মাঠ থেকে আলু তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষকরা।
তাছাড়া অন্যান্য বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে দ্বিগুণ ফলনের পাশাপাশি বাজারে ভাল দাম পাওয়ায় কম খরচে অধিক মুনাফায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে।