মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায় বুদ্ধিপ্রতিন্ধী এক তরুণীকে (২০) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে সালিস করে ২৫ হাজার টাকায় মীমাংসার চেষ্টাও হয়েছিল।পরে পুলিশ জানতে পারায় মামলা হয়।ধর্ষণচেষ্টায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে স্থানীয় লোকজন আজ মঙ্গলবার বিকেলে আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করেছেন।
মামলার এজাহারে,পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,নির্যাতনের শিকার তরুণীদের বাড়ি উপজেলার একটি গ্রামে।তরুণী শৈশব থেকে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী।বাবা বেঁচে নেই।তিনি ও তাঁর মা এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন।১২ সেপ্টেম্বর বিকেলে ওই তরুণী প্রতিবেশী সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা ইউপি সদস্যের বাড়িতে বেড়াতে যান।
এ সময় ইউপি পরিষদের (ইউপি) ওই সদস্য বাইরে ছিলেন।ঘরে ইউপি সদস্যের ১২ বছর বয়সী মেয়ে ছিল।একপর্যায়ে আব্দুল আলী (৪০) নামের প্রতিবেশী এক ব্যক্তি ইউপি সদস্যের ঘরে ঢুকে তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান।ইউপি সদস্যের মেয়ে দেখে ফেললে আব্দুল দ্রুত পালিয়ে যায়।পরে ইউপি সদস্য বাড়িতে ফিরলে শিশুটি তাঁকে ঘটনাটি জানায়।
এরপর ইউপি সদস্য তরুণীকে ডেকে এনে ঘটনার সত্যতা জানতে চাইলে তিনি তা স্বীকার করেন।ইউপি সদস্য এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানান।এ ব্যাপারে ওই দিন রাতেই তাঁর বাড়িতে সালিস বসে।সালিসে আব্দুল অপরাধ স্বীকার করেন।এ সময় সাদা কাগজে তাঁর একটি সাক্ষর ও নেওয়া হয়।সালিসকারীরা তরুণীর ক্ষতিপূরণ বাবদ ২৫ হাজার টাকা ধার্য করে,তা আব্দুলকে দিতে বলেন।আর্থিক সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।পরে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়।
খবর পেয়ে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায় সত্যতা যাচাই এর জন্য।পরে রাত ১২টার দিকে তরুণী বাদী হয়ে ধর্ষণের চেষ্টায় আব্দুল এবং ঘটনাটি সালিসে নিষ্পত্তির চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয় সাত ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও সাত-আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।আজ মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে এলাকাবাসী আব্দুলকে আটক করেন।পরে তাঁকে পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়।