1. bpdemon@gmail.com : Daily Kaljoyi : Daily Kaljoyi
  2. ratulmizan085@gmail.com : Daily Kaljoyi : Daily Kaljoyi
গ্রামবাংলার ঐতিহ্য লাঙ্গল-গরু ধরে রাখা এখন প্রায় দুরূহ
বাংলাদেশ । বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২ ।। ২৩শে শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি
ব্রেকিং নিউজ
দোয়ারাবাজারে অফিসার্স ক্লাবের উদ্যোগে ৫৭০ পরিবারে ত্রাণ বিতরণ তামাক আইন শক্তিশালী করতে পদক্ষেপ নিবে সরকার : আ.ক.ম মোজাম্মেল হক মাদ্রাসার সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ খোরশেদ আলমের প্রথম আলোচনা সভা মহালক্ষীপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা সামগ্রী বিতরন ইবিতে আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী উৎসব শুরু বন্যার্তদের পাশে দাড়ালেন স্বাস্থ্য ও পঃ কর্মকর্তার ডাঃ আবু সালেহীন খান কচুয়ায় ৪ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার চাঁদপুরের মতলবে ভুয়া বিচারপতি আটক বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহতার মধ্যে সিলেট বিভাগে বয়ে গেছে কালবৈশাখী ঝড় সৈয়দপুরে নদীতে লাফ দিয়ে টিকটক করাকালে ডুবে গিয়ে কিশোরের মৃত্যু

গ্রামবাংলার ঐতিহ্য লাঙ্গল-গরু ধরে রাখা এখন প্রায় দুরূহ

আতিফ রাসেল:
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২২
  • ২২৮ বার পড়েছে

জমি চাষের ঐতিহ্যবাহী একটি চিরায়িত পদ্ধতি ছিলো গরু কাঁধে জোয়াল বেঁধে লাঙল টেনে জমি চাষ। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ছোঁয়াই হারিয়ে গেছে এই চিরচেনা দৃশ্যটি। আধুনিকতার সাথে পাল্লা দিয়ে চলতে গিয়ে বিজ্ঞান দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছে। সেই অগ্রযাত্রা থেমে নেই কৃষিভিত্তিক প্রযুক্তিতে। দিনর পর দিন নতুন যন্ত্র আবিষ্কারের ফলে সারাদেশ থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে বাঙ্গালী’র চিরচেনা সেই গরু-লাঙল দিয়ে জমি চাষ।

বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ। অন্যান্য অঞ্চলের মতো গোটা টাঙ্গাইলের প্রতিটি অঞ্চলে এক সময় গরু-লাঙল দিয়ে জমি চাষ আর মই দেওয়ার দৃশ্য সবার নজর কাড়তো। বাড়ি থেকে বের হয়ে মাঠের দিকে নজর পড়তেই দেখা যেতো শত শত কৃষক লোহার ফালা দিয়ে তৈরি করা ধারালো লাঙ্গল কাঠের হাতল আর জোয়ালের মাধ্যমে গরুর কাঁধে বেধে দিয়ে জমি চাষ করছে। সে সময় গরু-লাঙ্গল ছাড়া জমি চাষ করার কথা চিন্তাই করা যেতো না। যুগের পরিবর্তন আর বিজ্ঞানের ক্রমাগত উন্নতির কারণে গরু-লাঙলের স্থান দখল করে নিয়েছে ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলারসহ বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতি। কৃষক এখন তার সুবিধামতো দিনের যে কোন সময় ট্রাক্টর বা পাওয়ার টিলার নিয়ে মাঠে গিয়ে অল্প সময়ে প্রয়োজনীয় জমি চাষ এবং মই দিয়ে ফসল আবাদ করছে। তবে এই ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষে পরিশ্রম এবং সময় কম লাগে এ কথাটি সত্য। কিন্তু ফসলের গুণগতমান এবং স্বাদ কমে গেছে। তাছাড়া জমির উর্বরতাও কমে যাচ্ছে।

প্রবীণ কৃষক আনসের প্রামাণিক জানান, এক সময় টাঙ্গাইল অঞ্চলের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে প্রতিটি ঘরেই ছিল গরুর লালন-পালন। এই গরুগুলো যেন পরিবারের এক একটা সদস্যের মতো। তাদের দিয়ে একরের পর এক ভূমি চাষ করা হতো। তিনি আরো জানান, যাদের গরু কিংবা হাল ছিলো না তারা জমি চাষের জন্য প্রশিক্ষিত জোড়া বলদের মালিককে সিরিয়াল দিতো জমি চাষ করে নেওয়ার জন্য। হাল মালিকেরা সময়মতো জমি চাষ করে দিতো। এতে করে চাষের মৌসুমে তাদের উপরি আয়ের ব্যবস্থা হতো।

ভূঞাপুর নিকরাইল ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল কাদের প্রামাণিক বলেন, জীবনের বেশিভাগ সময় কেটেছে তার লাঙল-জোয়াল আর গরুর পালের সঙ্গে। আমি যখন খুব ছোট বুঝতে শুধু করেছি ওই সময় আমার বাবা মারা যায়। চাচাদের সঙ্গে হাল চাষের কাজ করতাম। বাড়িতে হাল চাষের বলদ গরু ছিল ২ জোড়া। চাষের জন্য দরকার হতো ওই বলদ গরুগুলো। ১ জোড়া বলদ, লাঙ্গল-জোয়াল, মই, ছড়ি, বাঁশের তৈরি লাঠি, মুখের ঠুশি, কামইর লাগতো আমাদের হাল চাষ করার জন্য। এখন প্রায় কয়েক বছর হলো। ট্রাক্টরের আগমনে এখন তো আর গরু দিয়ে হালচাষ হয় না বললেই চলে। এখন সেই পুরনো স্মৃতিগুলোকে আঁকড়ে ধরে কষ্টের দিনগুলোর কথা মনে করে সময় পার করছি।

গরু দিয়ে হাল চাষের উপকারিতার কথা বর্ণনা করে একই ইউনিয়নের কোনাবাড়ী গ্রামের কৃষক মো. মুজিবুর মন্ডল বলেন, গরু দিয়ে হাল চাষ করলে জমিতে ঘাস কম হতো, হাল চাষ করার সময় গরুর গোবর সেই জমিতেই পড়তো। এতে করে জমিতে অনেক জৈব সার হতো, এ জন্য ফসলও ভালো হতো। ট্রাক্টর কিংবা মাহেন্দ্র দিয়ে চাষ পদ্ধতি শব্দ দূষণের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, হালের গরুর গোবর আমরা বাড়ি থেকে জমিতে দিতাম। সার কেনা লাগতো কম। এছাড়া পরিবেশ দূষণ কম হতো। তিনি আরো বলেন, লাঙ্গল দিয়ে চাষ করলে জমিতে অনেক খানি মাটির গভীরে গিয়ে মাটি তুলে উল্টিয়ে রাখতো। ওপরের মাটি নিচে পড়তো আর নিচের মাটি ওপরে। এখন তো আর তা নেই। ট্রাক্টর দিয়ে গভীর থেকে মাটি তোলা হয় না।

আস্তে আাস্তে পাওয়ার টিলারের প্রচলন হওয়ায় গরু দিয়ে হাল চাষের কদর কমে গেছে জানিয়ে মাটিকাটা গ্রামের প্রবীণ কৃষক মো. কাসেম আলী জানান, কম সময়ে বেশি জমিতে চাষ দিতে সক্ষম হওয়ায় জমির মালিকরা পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষ করে নিচ্ছেন। অথচ এক সময় গরুই হাল চাষের একমাত্র মাধ্যম ছিল। বর্তমানে আধুনিক সব কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার করে কৃষি ক্ষেত্রে অনেক সাফল্য নিয়ে এসেছে স্বীকার করে তিনি বলেন, যারা কৃষক গরু দিয়ে হাল চাষ করে জীবীকা নির্বাহ করতো কালক্রমে তারা পেশা বদল করে অন্য পেশায় চলে গেছেন।

৬নং নিকরাইল ইউনিয়ন (ভূঞাপুর) ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নরুল হক বলেন, আমার বাবাও একজন কৃষক ছিলেন এবং আমিও একজন কৃষক। তিনি আরও বলেন তার বাসা চর একালায় ছিলো এখন সেখানে যমুনার চর দীপ হওয়ায় সেখানে থাকা উপযোগি না কিন্তু চাষ করার জন্য ভালো মাঠ। গরু দিয়ে হাল চাষ গ্রামীণ সমাজের কৃষকদের একমাত্র অবলম্বন ছিল আমাদের। আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন তা বিলুপ্তির পথে। গ্রামীণ এই ঐতিহ্য ধরে রাখা এখন প্রায় দুরূহ। কারণ মানুষ এখন সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে। তবে যান্ত্রিকতার দাপটে ঐতিহ্যের এসব কৃষি উপকরণ কৃষকের ঘরে কতদিন টিকে থাকে তা ভবিষ্যতই বলে দেবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

Archive Calendar

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  
প্রকাশক কর্তৃক জেম প্রিন্টিং এন্ড পাবলিকেশন্স, ৩৭৪/৩ ঝাউতলা থেকে প্রকাশিত এবং মুদ্রিত।
প্রযুক্তি সহায়তায় Hi-Tech IT BD